সাবধান! আপনার দীপাবলির মিষ্টিতে ভেজাল নেই তো?

কখনও ভেবেছেন, মিষ্টি কিনতে গিয়ে আপনি ঠকছেন না তো? এমন তো হতেই পারে, ভালো মিষ্টি ভেবে যা কিনে আনছেন আসলে তা ভেজাল!

Edited by: Upali Mukherjee  |  Updated: October 26, 2019 17:28 IST

Reddit
Beware! Your Diwali Mithai May Be Adulterated

সাবধান! ভেজাল মিষ্টি খাচ্ছেন না তো?

Highlights
  • উৎসব মানেই মিষ্টিমুখ আর নানারকমের মিষ্টি বিক্রি
  • সাধারণত ছোট মিষ্টি বিক্রেতারাই বেশি লাভ করতে ভেজাল খাবার বিক্রি করেন
  • সমীক্ষা বলছে, বেশির ভাগ ভারতীয় মিষ্টিই অস্বাস্থ্যকর ভাবে বিক্রি হয়

ভারতে উৎসব মানেই সবার আগে মিষ্টিমুখ (sweets)। আমরা একে অন্যকে যেমন মিষ্টি খাওয়াতে ভালোবাসি তেমনি নিজেরাও মিষ্টিপ্রেমী। দীপাবলিতে সেই উৎসবের চল আরও বেশি। পাঁচদিনের এই উৎসবে একে অন্যের বাড়িতে যান মিষ্টি হাতে। সেই মিষ্টি রসের হতে পারে। শুকনো ক্ষীরের হতে পারে। কিংবা  ড্রাই ফ্রুট দিয়ে তৈরি হতে পারে। দীপাবলির আগে নানা ধরনের প্রচুর মিষ্টি তৈরি হয়। বিক্রিও বাড়ে মিষ্টির। কিন্তু কখনও ভেবেছেন, মিষ্টি কিনতে গিয়ে আপনি ঠকছেন না তো? এমন তো হতেই পারে, ভালো মিষ্টি ভেবে যা কিনে আনছেন আসলে তা ভেজাল! এবং সেই খাবার খেয়ে আনন্দে মেতে ওঠার বদলে আপনার হয়ত প্রাণ সংশয় দেখা দিল।সমীক্ষা বলছে, উৎসবের মরশুমে চাহিদার জোগান দিতে গিয়ে এবং নিজের লাভের পরিমাণ বাড়াতে গিয়ে ছোট ছোট মিষ্টি বিক্রেতারা ভেজাল (adulterated) উপকরণ দিয়ে খাবার বানান। যা ছোট থেকে বড়---সবার শরীরের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকর। আর বেশি ভেজাল মেশানোর সুযোগ থাকে দুধ, সর্ষের তেল, খোয়া ক্ষীর বা ড্রাই ফ্রুটে। 

'‘লওট আয়ে দিওয়ালি', আপ্যায়নে চানা ক্ষীর, বেসনের হালুয়া'': শেফ সঞ্জীব কাপুর

২০০৬- এর খাদ্য সুরক্ষা ধারা ৩ (ক) অনুযায়ী, উপকরণে ভেজাল মিশিয়েও নিম্নমানের খাবার বা মিষ্টি  তৈরি করা যেতে পারে। সাধারণত উৎসবের সময়ে ছোট দোকানের খাবারে এই ধরনের ভেজাল মিষ্টি বিক্রি করা হয়। যার মান অনেক সময়েই যাচাই করে নেওয়া হয় না। ফলে, ক্রেতারা অজান্তে নিম্নমানের খাহার কেনেন এবং প্রায়ই এই ধরনের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

মিষ্টি কেনার আগে যাচাই করে নিন

এবার প্রশ্ন, কীভাবে ভেজাল মিষ্টি কেনা থেকে দূরে থাকবেন? খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নামী, ঐতিহ্যপূর্ণ দোকান থেকে সবসময় মিষ্টি কেনা উচিত। গাঢ় রঙের মিষ্টি এড়িয়ে চলা ভাসো। কারণ, এই ধরনের মিষ্টিতে ভেজাল রং মেশানো সুবিধে। আর এই রং থেকে অ্যালার্জি হতে কতক্ষণ! এছাড়াও, খাদ্য দফতরের পক্ষ থেকে যেসব বিক্রেতাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে সেই লাইসেন্স দোকানের দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখা উচিত। যা ক্রেতাদের চোখে পড়বে এবং তাঁরা নিশ্চিন্তে খাবার কিনে নিয়ে যেতে পারবেন। দোকানদারকেও লাইসেন্স নবীকরণ বা রি-নিউ করতে হবে। 

qp0q0f4g

উজ্জ্বল রঙের মিষ্টি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ, এতে ভেজাল এড়ানো সম্ভব

এফএসএসএআই-এর ভূমিকা

মিষ্টিতে ভেজাল দেওয়া রুখতে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষপ নিয়েছে এফএসএসএআই। ৪৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে একটি প্রকল্প চালপ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ছোট-বড় সমস্ত খাবার ও মিষ্টির দোকানের খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। এবং যে দোকান স্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি করে তাকে বিশেষ শংসাপত্র দেওয়া হবে। এভাবেই ভেজাল খাবার তৈরির অসাধু ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করছে সংস্থা।

তাই আনন্দে মাতার আগে, অতিথি আপ্যায়নের আগে পরখ করে নিন আপনার কেনা মিষ্টি আসল না ভেজাল। নইলে আনন্দ নিরানন্দ হতে কতক্ষণ?

লেখক পরিচিতি: অশ্বিন ভদ্রি ইক্যুইনক্স ল্যাবের চিফ অফিসার 

সতর্কীকরণ: এই তথ্যের জন্য এনজিটিভি কোনোভাবেই দায়ী নয়।

Comments

খাদ্য সংক্রান্ত সাম্প্রতিক খবর, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত টিপস, রেসিপি জানতে, লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

Advertisement
Advertisement