স্বাধীনতার আগে থেকে এখনও সমান জনপ্রিয় কলকাতার যে বিখ্যাত রেস্তোরাঁগুলি

ভারতের আর কোনও শহরেই একসঙ্গে এতগুলি শতবর্ষ পার করা খাবারের দোকানের সন্ধান বোধহয় পাবেন না আপনি

एनडीटीवी  |  Updated: August 13, 2018 21:00 IST

Reddit
Independence Day 2018: 10 Kolkata Eateries That Existed Even Before India's Independence. 
Highlights
  • হেরিটেজ রেস্তোরাঁ ছড়িয়ে আছে সারা কলকাতা জুড়েই
  • 100 বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে এই দোকানগুলি
  • প্রতিষ্ঠার পরিবারই চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসা

ভারতের আর কোনও শহরেই একসঙ্গে এতগুলি শতবর্ষ পার করা খাবারের দোকানের সন্ধান বোধহয় পাবেন না আপনি। কলকাতা এমন একটি প্রাচীন শহর যেখানে স্বাধীনতার বহু প্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন খাবারের দোকান এখনও সমান জনপ্রিয়তা নিয়ে ব্যবসা করে চলেছে এবং মজার বিষয় এখনও সেই প্রাচীন মেনুই বিখ্যাত এই রেস্তোরাঁগুলোতে। আসলে নিছক দোকান নয়, ফুড মিউজিয়াম এই দোকানগুলি।

এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলি যে কেবল কলেজ স্ট্রিটেই আবদ্ধ তা নয়। কলকাতার হেরিটেজ রেস্তোরাঁ ও দোকানগুলি সারা শহর জুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে। খেতে যারা ভালোবাসেন আর খাবার মধ্যে দিয়েই নেড়ে ঘেঁটে দেখতে চান প্রাচীন এই ভালোবাসার শহরের ইতিহাস তাহলে এই শতবর্ষ পার করা দোকানগুলোতে অবশ্যই যাবেন একবার। কলকাতার মেট্রো স্টেশনের প্রেক্ষিতে দেওয়া হইল এমনই কয়েকটি রেস্তোরাঁর ঠিকানা।

1. অবস্থান: গিরিশ পার্ক

রেস্তোরাঁ: গিরিশ চন্দ্র দে এবং নকুড় চন্দ্র দে

1844 সালে একটি শ্বশুর এবং জামাই মিলে শুরু করেন এই মিষ্টির দোকান। আপনি এখানে কিন্তু মোটেই রসগোল্লা, পান্তুয়া, চমচম, ল্যাংচা, দরবেশ বা মিষ্টি দই পাবেন না। এঁদের বিশেষত্ব কেবলই সন্দেশে। বেকড ছানা দিয়ে তৈরি সন্দেশ জিভে জল আনতে বাধ্য।

2. অবস্থান: শোভাবাজার সুতানটি

রেস্টুরেন্ট: মিত্র কেবিন

ভারত স্বাধীন হওয়ার 37 বছর আগে 1910 সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ছোটত দোকান মিত্র কেবিন। প্রতিষ্ঠাতার পরিবারই এখনও ব্যবসা চালায়। এখানে এলে কবরাজি কাটলেট (চিকেন বা মাছ, যেটা পছন্দ) না খেয়ে বেরোবেন না। ডিমের গোলায় ডুবিয়ে ভাজা ঝুরঝুরে কবিরাজি কাটলেট যুগ যুগ ধরে বাঙালির প্রিয় তেলেভাজার অন্যতম।

 

A post shared by Riya Adhya (@riya_adhya) on

3. অবস্থান: শোভাবাজার সুতানটি

রেস্টুরেন্ট: অ্যালেন কিচেন

কলকাতায় চিতপুরে স্কটল্যান্ডের একজন ভদ্রলোক 130 বছর আগে এই ছোট্ট দোকানটি প্রতিষ্ঠা করেন। অ্যালেন নামের ওই ভদ্রলোকের নামেই হয় দোকানের নাম। এরপর তিনি শোভাবাজারে চলে এলে এলেও ঐ দোকানের কর্মচারীরা বংশ পরম্পরায় চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দোকানটি।, যেখানে এটরিটি এখনও চলমান মূল কর্মচারীর বাঙালি বংশোদ্ভূত দ্বারা পরিচালিত হয়। চিংড়ির কাটলেটের জন্য বিখ্যাত এই অ্যালেন কিচেন।

4. অবস্থান: সেন্ট্রাল (কলেজ স্ট্রিট)

রেস্তোরাঁ: পুঁটিরাম

160 বছর বয়সী এই মিষ্টির দোকান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কলেজ স্ট্রিটের জনপ্রিয় দোকান গুলির অন্যতম হয়ে উঠেছে। সকালে কচুরি ব্রেকফাস্ট আর সন্ধ্যায় রাধা বল্লভী আর সাথে ছোলার ডাল। একবার খেলে বারেবারেই মন টানবে যেতে। শিঙাড়া আর বিখ্যাত সাদা মিষ্টি দই খেতেও ভুলবেন না কিন্তু।

.

5. অবস্থান: সেন্ট্রাল (কলেজ স্ট্রিট)

রেস্তোরাঁ: দিলখুসা কেবিন

কলকাতার কেবিন কালচার প্রায় শেষের মুখেই। এক শতকেরও বেশি আগে  শুরু হয়েছিল কেবিন সংস্কৃতি। এক কাপ চা আর ভাজাভুজি নিয়ে ঘন্টার পর ঘণ্টা আড্ডার ইতিহাস আজও বয়ে বেড়াচ্ছে এই কেবিনগুলি। সাহেবদের ক্লাবের খাবার দ্বারাই মূলত অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছিল স্ন্যাকস পরবর্তীকালে চপ, কাটলেট, মাখন টোস্ট এবং ডিমের অমলেট, ডিমের ডেভিল আর নার্গিসি কাবাব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই কেবিনে। সেই থেকে শুরু করে হালফিলের নুডলস চিলি চিকেনও জায়গা করে নিয়েছে এই কেবিনে। 116 বছর বয়সী এই কেবিন আজও ঐতিহ্যের নিদর্শন নিয়ে দাঁড়িয়ে। একই রকম জনপ্রিয় এই এলাকারই বসন্ত কেবিন।

 

A post shared by Arunima Ghosh (@arunima.ghosh) on

6. অবস্থান: সেন্ট্রাল (কলেজ স্ট্রিট)

রেষ্টুরেন্ট: প্যারামাউন্ট কোল্ড ড্রিংকস এবং মিষ্টি

এই বছরই শতবর্ষে পা দিল শরবতের বিখ্যাত দোকান প্যারামাউন্ট। ব্রিটিশদের চোখে ধুলো দিয়ে সাক্ষাতের জন্য বহু বিপ্লবীর ঠিকানা ছিল এই প্যারামাউন্টের দোকান। প্রতিষ্ঠাতার পরিবারই এখনও পর্যন্ত চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ঐতিহ্যাবাহী এই দোকান। বিভিন্ন মৌসুমি ফলের রসের তৈরি পানীয় বিখ্যাত এই দোকানে। তবে সবচেয়ে বিখ্যাত হল ডাবের শরবত।

7. অবস্থান: সেন্ট্রাল (কলেজ স্ট্রিট)

রেষ্টুরেন্ট: স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল

ওড়িশা থেকে কলকাতায় আসে এমন একটি পরিবার দ্বারা 19২7 সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল। পাইস হোটেল নামেই এখনও জনপ্রিয় এত রেস্তোরাঁ। তুলনামূলক কম দামে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেষ করে এই দোকানটি। অফিস পাড়ায় অবস্থিত হওয়ায় সব সময়েই ভিড় লেগে রয়েছে দোকানে, কলাপাতায় ভাত আর মাটির ভাঁড়ে জল দিয়ে খাবার পরিবেশন করেন এরা। মাছের মাথা দিয়ে চচ্চড়ি আর পাতলা করে রাঁধা মাছের ঝোল খেয়ে দেখতে ভুলবেন না।

8. অবস্থান: এসপ্ল্যানেড

রেস্তোরাঁ: অনাদি কেবিন

ঠিক কোনদিন প্রয়াত আনাদি এই কেবিন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা জানা যায় না। তবে কম করে হলেও শ’খানেক বছর তো হবেই এই দোকানের বয়স। মোগলাই পরোটার জন্যই বিখ্যাত এই দোকানে পাবেন অসাধারণ কষা মাংসও। আছে কবিরাজি কাটলেটও।

 

A post shared by Dudefood (@kaniskac) on

9. স্থান: এসপ্ল্যানেড

রেস্তোরাঁ: আমিনিয়া রেস্টুরেন্ট

এলিট সিনেমা হলের পাশে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটি 1924 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নব্বই বছর ধরে আউধি বিরিয়ানির বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান এই আমিনিয়া। বিরিয়ানির সাথে চাইলে এক্সট্রা আলু দিতেও দিলদার এই দোকান। বিরিয়ানির মশলা আর মাংসের রসের সেদ্ধ নরম আলুর স্বাদই আলাদা এখানে। অমনিয়ার আলু মুরগির মাংসের সাথে মিশিয়ে মুরগির রস হিসেবে যোগ করেন। আমিনিয়াতে এখনও পর্দাঘেরা কেবিন পাবেন আপনি। কলকাতার কয়েকটি রেস্তোরাঁতেই এখনও স্বাধীনতার আগের আমলের পর্দাওয়ালা কেবিন দেখতে পাওয়া যায়। সাধারণত পরিবারের নারীদের বাইরে রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার জন্য এই কেবিন তৈরি হয়েছিল সেকালে।

10. অবস্থান: পার্ক স্ট্রিট

রেস্তোরাঁ: সিরাজ গোল্ডেন রেস্টুরেন্ট

কলকাতা ঘরানার বিরিয়ানির অন্যতম সেরা ঠিকানা। 1941 সাল থেকে এই ব্যবসা চালাচ্ছেন তাঁরা। 'মোগলাই' ব্রেকফাস্ট খেতে চাইলে সিরাজে আপনাকে একবার ঢুঁ মারতেই হবে। সাধারণত সকাল 6 টা থেকেই শুরু হয়ে যায় এঁদের বিক্রি। সারাবছর ধরেই মেলে ডাল গোস্ত, শীতের স্পেশাল মেনু নিহারি।

.



খাদ্য সংক্রান্ত সাম্প্রতিক খবর, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত টিপস, রেসিপি জানতে, লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

Advertisement
সৌন্দর্য
Advertisement
 
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com