করোনা ভয়ে কি ক্রেতা কমেছে কলকাতার রেস্তোরাঁর?

মুরগি দূরঅস্ত, মাটন পর্যন্ত ছুঁয়ে নাকি দেখছে না তিলোত্তমা! এমন খবর শহরজুড়ে। কতটা সত্যি?

Reported by: Upali Mukherjee, Written by: Upali Mukherjee  |  Updated: March 17, 2020 21:43 IST

Reddit
Is the Customer Down In Kolkata Restaurant Due To Outbreak Of CoronaVirus?

খাওয়া দাওয়ায় ফাঁকি নেই (সৌজন্যে: বৈদিক ভিলেজ)

করোনার দাপটে (CoronaVirus) মুরগি দূরঅস্ত, মাটন পর্যন্ত ছুঁয়ে নাকি দেখছে না তিলোত্তমা! এমন খবর শহরজুড়ে। কতটা সত্যি? নাকি নিছক গুজব পুরোটাই? রেস্তোরাঁয় মানুষের ভিড় কমেছে? সবাই কি নিশ্চিন্তেই খাওয়াদাওয়া করছেন আগের মতো? হোম ডেলিভারি যাঁরা দেন তাঁদের ব্যবসায় মন্দা? ক্রেতারা কেমন খাবার খেতে বেশি চাইছেন, নিরামিশ না আমিষ? শহর ঘুরে তারই খবরে NDTV----

ঔধ ১৫৯০ (Oudh 1590):  দেশপ্রিয় পার্ক, বালিগঞ্জ, বিধাননগর, যশোর রোডের চারটি আউটলেটে সামান্য ভিড় কমেছে ভোজন রসিকদের, জানিয়েছেন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। বদলে বেড়েছে হোম ডেলিভারি। ভিড় এড়াতে আপাতত বাড়িই ভরসা। সেখানেই চর্বচোষ্যলেহ্যপেয় জমিয়ে খাচ্ছেন বাঙালি। মাছ, মাংস, ডিম---কিছুতেই অরুচি নেই কারোর। বরং যাঁরা খেতে আসছেন বা অর্ডার দিচ্ছেন বাড়ির জন্য, তাঁরা মাংস না পেলে মনখারাপ করছেন! চিকেনে চিনে ভাইরাস করোনা লুকিয়ে, এই গুজব মোটেই পাত্তা দিচ্ছেন না শহরবাসী।



2lia6ar



বৈদিক ভিলেজ (Vedic Village): শহরের উপকণ্ঠে ছিমছাম বৈদিক ভিলেন অ্যান্ড স্পা রিসর্ট। বিশাল জায়গা জুড়ে কংক্রিটের খাঁচায় বন্দি তিলোত্তমার বুকে একটুকরো মিনি গ্রামের সংস্করণ। করোনা সংক্রমণ এই ছবির মতো গ্রামে আদৌ থাবা বসাতে পেরেছে? সংস্থার পক্ষ থেকে নীরজ শাহ জানান, এমনিতেই লোকালয় থেকে দূরে হওয়ায় বাড়তি ভিড় কোনোদিনই দেখা যায় না এখানে। সঙ্গে প্রচুর গাছপালা থাকায় জীবাণুর প্রকোপ এমনিতেই কম। তবু বাড়তি সাবধানতা হিসেবে মহামারি ঘোষণার পর থেকে বিশেষ যোগচর্চার সেশন রাখা হয়েছে। এছাড়া, সংক্রমণ এড়াতে থাকছে আয়ুর্বেদিক স্পা সঞ্জীবা (sanjeeva)। এই সময় সংক্রমণ এড়িয়ে সুস্থ থাকতে বৈদিক ভিলেজ আদর্শ জায়গা।



9b28baug



যাঁরা রোজের খাবার বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে দেন, তাঁদের ব্যবসার অবস্থা কী? এপ্রসঙ্গে মুখ খুললেন শমিত নন্দী এবং দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। শমিত জানালেন, মাছ, মাংস, ডিম---সমস্তই খাচ্ছেন কাস্টমারেরা। ফোনে অর্ডারও দিচ্ছেন। না পেলে মনঃক্ষুণ্ণ হচ্ছেন। বাজারে মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা কেজি দরে। অনেকেই বলছেন, ৮০ টাকা কিলো দরে এখন চিকেন বিক্রি হচ্ছে। এটা বাজে কথা। আগেও এই দামে মাংস বিক্রি হত। সাধারণত, বুড়ো বা ঝিমিয়ে পড়া মুরগি গোটা নয় কেটে বিক্রি হয় বরাবরই। অনেকে ভালো মাংসের সঙ্গে পাইল করে দেন ওই ধরনের মাংস। তাই করোনা সংক্রমণের ভয়ে নয়, মাংস কেনা উচিত সব সময় গোটা মুরগি দেখে। পাঁঠার মাংসের দাম এই মুহূর্তে ৬৮০ টাকা।

Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com

ভিন্ন সুর দেবাশিসবাবুর গলায়। তিনি জানালেন, ব্যবসায় প্রভাব ফেলেছে এই সংক্রমণ। অনেকে আমিষের বদলে নিরামিষ খেতে চাইছেন। যাঁরা বাইরে থেকে এসে কলকাতায় পড়াশোনা করেন বা চাকরি করেন তাঁরা বেশির ভাগ ফিরে গেছেন বাড়িতে। ফলে, সংখ্যা কমেছে কাস্টমারের। আবার কেউ কেউ বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিজেরাই বাড়িতে রেঁধে নেবেন।

তবে দু'জনেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন, সবজির দাম এর ফলে ওঠানামা করছে। সবজি বাজারেও লোক নেই। ফলে, খদ্দেরের পরিমাণ বুঝে দাম বাড়ছে কমছে। চাষীরাও আসছেন না চট করে শহরের বাজারে। কিছু আনাজ যেমন, আলু, পটল, শাক ইত্যাদির দাম মোটামুটি একই আছে।

Comments

খাদ্য সংক্রান্ত সাম্প্রতিক খবর, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত টিপস, রেসিপি জানতে, লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

Advertisement
সৌন্দর্য
Advertisement