'জয় হো' জয়নগরের মোয়ার, শেষ শীতের শেষ কামড়

শীত পড়লেই নিজ দেশে, পরবাসে বাঙালির রসনা খোঁজে কনকচূড় ধান ভেনে, নলেন গুড় আর খোয়া ক্ষীরে পাক দেওয়া জাদুকরী জয়নগরের মোয়া।

Ashwin Rajagopalan  |  Updated: February 16, 2020 15:51 IST

Reddit
Jaynagarer Moya: A Delicate Sweet Treat From Bengal You Must Try

শীতের শেষবেলার শেষ কামড়

বাঙালির পৈটিক ব্যাপারে মানেই রসগোল্লা, দার্জিলিংয়ের চা  (Darjeeling tea) আর জয়নগরের মোয়া (Jaynagarer Moya)। রসগোল্লা তুমি কার? এই নিয়ে অনেক গপ্পো আছে। বাংলা-ওড়িশার টক-মিষ্টি টাগ অফ ওয়্যারে জিতেছে অবশ্য বাংলা। ১৯৯৯-এ এই দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে থামে ২০১৭-য় GI Tag পাওয়ার পর। দার্জিলিংয়ের চা-ও পেয়েছে এই বিশেষ তকমা। ব্যতিক্রম জয়নগরের মোয়া। ট্যাগ ছাড়াই বাংলার এই মিষ্টি শহর ছাড়িয়ে দেশ হয়ে বিদেশ কাঁপায় স্বাদে-গন্ধে। শীত পড়লেই নিজ দেশে, পরবাসে বাঙালি রসনা খোঁজে কনকচূড় ধান ভেনে, নলেন গুড় আর খোয়া ক্ষীরে পাক দেওয়া জাদুকরী জয়নগরের মোয়া। ভিয়েন থেকে নামলেই হাতের ছোঁয়ায় জন্ম নেয় অমৃততুল্য মিষ্টি। ওপরে ক্ষীরের গুঁড়ো, কাজু-কিশমিশের সহবাস। প্রতি কামড়ে 'জয়নগরের জয়' বলে ওঠে জিভ।

Recipe Video Inside: চিজে মাখামাখি, দাদু-নাতি সুখী. দিনে-রাতে চিজ পরোটায়....

নলেন গুড়ের প্রতি মাখোমাখো প্রেম আমার আজন্ম। কড়া শীতে খেজুর গাছের গায়ে বেঁধে রাখা হাঁড়িতে টপটপিয়ে ঝরতে থাকে রস। সেই ঈষৎ ঝাঁঝালো রস দাউ দাউ আঁচে জ্বাল দিতে দিতে বদলে যায় পাটালি, নলেন, পয়রা গুড়ে। সেই গুড় যখন মিষ্টির বুকে মুখ লুকোয় তার স্বাদ যে না খেয়েছে সে কী বুঝবে! 'কী খেলুম বল', বলতে বলতে টপাটপ মুখে পুরতে বেশিক্ষণ সময় নেয় না আমি এবং আমার মতো মিষ্টিখোর বাঙালি। শীত এবছরের মতো ছেড়ে যাওয়ার আগে একবারও চেখে দেখেছেন নলেন গুড় ভরা কড়াপাক, নরম পাক বা জয়নগরের মোয়া? না হলে পৌঁছে যান রাজারহাট নিউ টাউন এলাকার বাংলা মিশি হাব-এ।  এখানেই আমি গত শীতে প্রথম মোয়া আবিষ্কার করেছিলাম। এখান থেকেই জেনেছি, বর্ধমানের ১৫০ টি মিষ্টির দোকান এখনও মোয়ার এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। 

Recipe Video Inside: চিজে মাখামাখি, দাদু-নাতি সুখী. দিনে-রাতে চিজ পরোটায়....





মোয়ার টানে এবছরেও শীতের কলকাতায় আমার পা রাখা। উত্তর কলকাতার কয়েকটি নামী মিষ্টির দোকানে ঘোরার সময় এক সাংবাদিক বন্ধু জানান মোয়ার ইতিকথা। ২৪ পরগনা জেলার বাহরু গ্রামে প্রথম জন্ম এই মোয়ার। এই গ্রামের যামিনী নলেন গুড় এবং খোয়া ক্ষীর দিয়ে প্রথম মোয়া তৈরি করেছিলেন। ১৮৯৯ সালে পূর্ণচন্দ্র ঘোষ এবং নিত্যগোপাল সরকার ঘি, এলাচ এবং কাজু মিশিয়ে তাকে আরও উপাদেয় বানান। যা জয়নগরের মোয়া হিসেবে প্রসিদ্ধ। এবং এই দুই মিষ্টি প্রস্তুতকারী জয়নগরের বাসিন্দা বলেই সেই শহরের নামে নাম হয়েছে মোয়ার।

অনেকেই বলেন, শীতে ইদানিং কনকচূড় ধান কম মেলে। তাহলে কি মোয়া হবে না! পরিবর্ত হিসেবে তাই ব্যবহার করা হচ্ছে মরিশাল ধান। যার সঙ্গে আগে বলা উপকরণ মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে মোয়া। তবে জয়নগরের মোয়া ভীষণ সুখী মিষ্টি। চারদিনের বেশি থাকে না। স্বাদ-গন্ধ নষ্ট হয়ে যায়। আর ফ্রিজে রেখে খেতে গেলে একদিনেই নষ্ট তার সমস্ত কৌলিন্য। আপনি বাড়িতে বানিয়ে দেখতে পারেন। তবে সেই স্বাদ, আভিজাত্যের ছোঁয়া আনা সত্যিই মুশকিল।

Valentines Day: প্রেম হোক পৈটিক, ফিশ ফিঙ্গার-গ্রিলড চিকেনে





জয়নগরের মোয়া

সৌজন্যে - নভোতেল, কলকাতা


উপকরণ:

  • ৫০০ মিলি সরওয়ালা দুধ
  • ১০০ গ্রাম খেজুর গুড়
  • কাজু-কিশমিশ টুকরো
  • ১০০ গ্রাম কনকচূড় ধান
  • সাজানোর জন্য কাজু

প্রণালী:

  1. এক কাপ দুধ ঢিমে আঁচে জ্বাল দিয়ে সিকি কাপ করুন। এবার এতে আরও এককাপ দুধ দিয়ে জ্বলে বসান।
  2. এবার নলেন গুড় মিশিয়ে জ্বাল দিন। 
  3. সেই মিশ্রণে একমুঠো কাজু-কিশমিশি আর কনকচূড় ধান ফেলে দিন। গা-মাখা হলে নামিয়ে ঈষদুষ্ণ অবস্থায় গোলাকার মোয়ার আকারে গড়ে নিন। ওপরে খোয়া ক্ষীর আর কাজু-কিসমিশ ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

সতর্কীকরণ: এই তথ্য সংস্থার নিজস্ব নয়।

Comments

About Ashwin RajagopalanI've discovered cultures, destinations and felt at home in some of the world's most remote corners because of the various meals I've tried that have been prepared with passion. Sometimes they are traditional recipes and at most times they've been audacious reinterpretations by creative chefs. I might not cook often but when I do, I imagine I'm in a cookery show set - matching measuring bowls, et all!

খাদ্য সংক্রান্ত সাম্প্রতিক খবর, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত টিপস, রেসিপি জানতে, লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

সংশ্লিষ্ট রেসিপিগুলো

Advertisement
Advertisement